language

কয়েল বা ইণ্ডাক্টার

প্রাথমিকভবে বলা যায় যে , ইণ্ডাক্টার ( inductor ) বা আবেশক হচ্ছে পরিবাহী তারের একটা সাধারণ কুণ্ডলী । বা কয়েল ( coil ) । এই কয়েল যদি কোন চৌম্বক পদার্থের উপর জড়ানাে হয় তাহলে তার ইডাক্টেন্স inductance ) বা আবেশাঙ্ক বেড়ে যায় । তাই কয়েলের আর এক নাম ইণ্ডাক্টার । আবেশ । স্ক হচ্ছে কোন এক যন্ত্রাংশ ( component ) । বা সাকিটের এমন একটা ধম , সেখানে তড়িৎ - প্রবাহের কোন রকম তারতম্য ঘটলে তাতে সে বাধার সটি করে । তড়িৎ - প্রবাহের হেরফের ঘটলে ইণ্ডাক্তার বাধা সন্টি করে , কারণ এরকম ধরনের পরিবর্তন চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতারও ( intensity ) তারতম্য ঘটায় । আমরা আগের পরিচ্ছেদ থেকে জেনেছি যে , তড়িৎবাহী প্রত্যেক পরিবাহীর চারিদিকে চৌম্বক ক্ষেত্রের সষ্টি হয় ।

magneticfield.jpg

ধরা যাক একটা পরিবাহীর ভিতর দিয়ে এ . সি . বা অল্টারনেটিং কারেন্ট প্রবাহিত হচ্ছে । যখন পরিবাহীতে কারেটর । পরিমাণ শুন্য ( 0 ) , তখন পরিবাহীর চতুর্দিকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্র থাকে না । এরপর যখন পরিবাহীতে কারেন্ট প্রবাহিত হতে শুরু করে তখন চৌম্বক ক্ষেত্রও 7 সর্বোচ্চ চোখ % 257 সষ্টি হতে থাকে এবং কারেন্টের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে = 6 শূন্য , সঙ্গে চৌম্বক ক্ষেত্রের ঘনত্বও ( density ) বাড়তে থাকে । ঞ্চারেন । কেন 0ৈ এই ঘনত্বের পরিমাণ তখনই সবোচ্চ হয় , যখন কারেন্ট ফেন চৌ রে নেই । ( নেই । পজিটিভ হাফ সাইকসের সর্বোচ্চ বিন্দুতে ( peak ) পার্বাট গুলরে , পোঁছায় ( চিত্র - 12 - 1 ) । চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক সর্বোচ্চ চৌম্বরে ( direction ) ফ্লেমিং - এর বাম হাতের নিয়মের সাহায্যে চিত্র - 12 - 1 নিণীত হয় । এরপরই পজিটিভ হাফ সাইকলসে । কারেন্টের পরিমাণ কমতে থাকে এবং এরফলে চৌম্বক ক্ষেত্রের ঘনত্বও কমতে থাকে । এখানে কারেন্ট যখন শূন্যতে । পৌছায় তখন চৌম্বক ক্ষেত্রেরও সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে । তারপর কারেন্ট নেগেটিভ হাফ সাইকলসের দিকে প্রবাহিত । হতে থাকে এবং আস্তে আস্তে তার পরিমাণও বাড়তে থাকে । সেইসঙ্গে পুনরায় চৌম্বক ক্ষেত্রের সষ্টি হয় এবং আস্তে আস্তে তার তীব্রতাও বাড়তে থাকে । তবে এবারে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকটা হয় , পজিটিভ হাফ সাইকলসের সময় দিকের ঠিক বিপরীত । এখানে চৌম্বকক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হয় , যখন কারেন্ট নেগেটিভ হাফ । সাইকলাসের সর্বোচ্চ বিন্দুতে

পৌছায় । তারপরেই কারেন্টের পরিমাণ কমতে থাকে , এবং সেইসঙ্গে চৌম্বকক্ষেত্রের তীব্রতাও কমতে থাকে । সতরাং দেখা যাচ্ছে যে , অল্টারনেটিং কারেন্ট যে পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে তার চারিদিকে অনবরত । একটা পরিবতিত ( changing ) চৌম্বক ক্ষেত্রের সষ্টি করতে থাকে । সেইসঙ্গে আরও বলা যায় যে , চৌম্বক ক্ষেত্রের । ক্ষমতা ( strength ) কারেন্টের তীব্রতার উপর নির্ভরশীল । ইণ্ডাক্টারের বৈশিষ্ট্য ( Characteristics of inductor ) ও ইণ্ডাক্তারের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হচ্ছে ( a ) তড়িৎবাহী পরিবাহী ( Current carrying conductor ) — বৈজ্ঞানিক হ্যান ক্রিশ্চান ওরস্টেড সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন যে , কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করলে পরিবাহীর চারপাশে চৌম্বক ক্ষেত্রের সষ্টি । হয় ( চিত্র - 12 - 2 ) । যদি পরিবাহী তারকে কয়েলের আকারে জড়ান হয় তাহলে কয়েলের প্রত্যেক পাকের { turn ) চিত্র - 12 - 2 চিত্র — - 12 - 3 - - । জন্য সস্ট চৌম্বকক্ষেত্র একত্রিত হয়ে একটা সমগ্র ( composite ) চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি করবে । এই সমগ্র চৌম্বকক্ষেত্রটা এমন যে , কয়েলের এক প্রান্তে উত্তর মের , ( N ) এবং অন্য প্রান্তে দক্ষিণ মের , ( S ) সন্টি করবে ( চিত্র — 12 - 3 ) , ঠিক যেমন বার ম্যাগনেট বা দণ্ড চুম্বকের ক্ষেত্রে দেখা যায় । ( b ) পারস্পরিক আবেশাঙ্ক ( Mutual inductance ) — যখন চৌম্বক ক্ষেত্রের বা বলরেখার হ্রাস - বৃদ্ধি কয়েলের পাককে ছেদ করে ( eut ) , তখন কয়েলে একটা ভােল্টেজ আবিষ্ট হয় । এই ঘটনা সর্ব প্রথম আবিষ্কার করেন বৈজ্ঞানিক মাইকেল ফ্যারাডে । তিনি দুটো কয়েল নিয়ে পরীক্ষা করার সময় দেখেন যে , যখন একটা কয়েলের মধ্যে কারেন্ট প্রবাহিত করা হয় অথবা প্রবাহ বন্ধ করা হয় তখন সেই কয়েলের কাছের কয়েলেও কারেন্ট উৎপন্ন হয় । ( চিত্র - 12 - 4 ) । | ( c ) স্বকীয় আবেশাঙ্ক ( Self inductance ) | চিত্র - 12 - 4 — বৈজ্ঞানিক যােশেফ হেনরি স্বকীয় আবেশাঙ্কের । ব্যাপারটা সবপ্রথম আবিষ্কার করেন । তিনি দেখেন যে , যখন চৌম্বকক্ষেত্র কোন পরিবাহীকে ছেদ করে তখন স্বাবেণের তড়িচ্চালক বলের সৃষ্টি হয় । ধরা যাক , কোন পরিবাহীর ( বা কয়েল ) মধ্যে অল্টারনেটিং কারেন্ট ( এ . সি . ) প্রবাহিত করা হচ্ছে । সেখানে কারেন্টের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চৌম্বকক্ষেত্রেরও বব্ধি ঘটে । পরিবাহীর অভ্যন্তরে মক্ত ইলেকট্রনে । চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয় । যেহেতু চৌম্বকক্ষেত্রের বদ্ধি ঘটে , তাই পরিবাহীর বাইরেও তার বিস্তৃতি ঘটে । এই ।

IMG-Choke-Coils.jpg

অবস্থায় বিস্তৃত চৌম্বকক্ষেত্র পরিবাহীকে ছেদ করে এবং একটা স্বকীয় আবিষ্ট ( self induced ) তড়িচ্চালক বলের সৃষ্টি হয় । আবার পরিবাহীতে কারেন্টের পরিমাণ হ্রাস পেতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে চৌম্বকক্ষেত্রেরও বিলুপ্তি ঘটতে থাকে । এই বিলুপ্ত হতে থাকা চৌম্বকক্ষেত্র পনয়ায় পরিবাহীকে ছেদ করে এবং পুনরায় আবিষ্ট তড়িচ্চালক বলের সৃষ্টি হয় । তাহলে দেখা যাচ্ছে যে , চৌম্বকক্ষেত্রের যখন বৃদ্ধি ঘটে বা বিলুপ্তি ঘটে তখন উভয় ক্ষেত্রেই ঋবেশ তড়িচ্চালক বলের সন্টি হয় । তবে উভয় ক্ষেত্রে যে দুটো তড়িচ্চালক বলের সষ্টি হয় তাদের পােলারিটি হয় বিপরীত । অতএৰ পরিবাহীতে কারেন্টের হ্রাস - বৃদ্ধি ঘটিয়ে স্বকীয় আবিষ্ট তড়িচ্চালক বল সষ্টি করা সম্ভব । পরিবাহীতে অল্টারনেটিং কারেন্ট প্রবাহিত হতে থাকলে , সেখানে কারেন্টের বদ্ধির সময় যে স্বকীর আবিষ্ট তড়িচ্চালক বলের সষ্টি হয় তার পােলারিটি হয় প্রযুক্ত ভােল্টেজের পােলারিটির বিপরীত । সুতরাং কারেন্টকে বাধা দেওয়ার এর একটা প্রবণতা থাকে । আবার যখন পরিবাহীতে কারেন্টের পরিমাণ কমতে থাকে তখন স্বকীয় আবিষ্ট তড়িচ্চালক বল সষ্টির জন্য সে যে পােলারিটি পায় সেই

পােলারিটিও কারেন্টের প্রবাহকে বাধা দেয় । সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে , স্বকীয় আবিষ্ট তড়িচ্চালক বল সব সময় প্রযুক্ত ভােল্টেজের বিপরীতে বা বিরুদ্ধে কাজ করে । সেইজন্য এই তড়িচ্চালক বলকে বলা হয় বিপরীত তড়িৎচ্চালক বল ( counter e . m . f . ) । স্বকীয় আবিষ্ট তড়িচ্চালক বলের এই স্বভাবের ( behaviour ) সম্বন্ধে এইচ . এফ . এমিল লেঞ্জ সর্বপ্রথম ব্যাখ্যা । দিয়েছিলেন । তাই একে লেঞ্জের সত্র নামে অভিহিত করা হয় । | সূত্র কারেন্টের হ্রাস - বৃদ্ধির ফলে যে তড়িচ্চালক বল আবিষ্ট হয় , তার পােলারিটি এমন হয় যে , তা কারেন্টের পরিবর্তনে বাধার সৃষ্টি করে । কয়েলে কারেন্টের পরিমাণ কমলে যে বিপরীত তড়িচ্চালক বলের সষ্টি হয় , সেই বল তখন কারেণ্টের পরিমাণকে বাড়াবার চেষ্টা করে । আবার কয়েলে কারেন্টের পরিমাণ বাড়লে যে বিপরীত তড়িচ্চালক বলের সৃষ্টি হয় , সেই বল কারেন্টের পরিমাণকে কমিয়ে একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করে । সুতরাং একটা কয়েল বা ইণ্ডাক্টারকে কারেন্ট রেগুলেটার বা তড়িৎ নিয়ন্ত্রক হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে । কারণ সে ( ইন্ডাক্টার কারেন্টকে সবসময় একটা নির্দিষ্ট ভ্যালতে ধরে রাখার চেষ্টা করে । নিম্নলিখিত ফমলার সাহায্যে বিপরীত তড়িচ্চালক বল ( counter e . m . f . ) নির্ণয় করা হয় । যথা বিপরীত তড়িচ্চালক বল = Lxকারেন্টের পরিবর্তন । সময়ের পরিবর্তন । এখানে ব্যবহৃত বিযুক্ত চিহ্নের ( - ) মানে হচ্ছে , যে ভােল্টেজের বুদ্ধি হয়েছে সেটা হচ্ছে একটা বিপরীত ভােল্টেজ ( counter voltage ) এবং একে যে বল ( force ) সষ্টি করেছে তার প্রতিরােধ করছে । # আবেশকেয় ধর্ম ( Properties of inductor ) | ইণ্ডাক্টে বা আবেশাঙ্ক হচ্ছে ইন্ডাক্তার বা আবেশকের ধর্ম , যারজন্য সে কারেন্টের যেকোন রকম পরিবর্তনে বাধার সটি করে । সুতরাং ইন্ডাক্টারের প্রবণতা হচ্ছে অল্টারনেটিং কারেন্টকে ( এ . সি . ) বাধা দেওয়া । কিন্তু । ডাইরেক্ট কারেন্টের ( ডি . সি . ) উপর এর কোন প্রভাব নেই । এর ভিতর দিয়ে ভি . সি . বিনা বাধায় যেতে পারে । এ . সি . সাকিটে কারেন্ট অনবরত পরিবর্তিত হয় , তাই ইডাক্টেন্সও সব সময় বাধার সৃষ্টি করে যায় । কারেন্ট যত দ্রুত পরিবর্তিত হয় , তত বেশি বাধার সৃষ্টি হয় । কয়েলের ইণ্ডাক্টেক্সকে সংক্ষেপে ' L ' অক্ষরে , মিউচুয়াল ইডার্কেন্সকে ‘ M ’ অক্ষরে , রিএ্যাকটেন্সকে ‘ XL অক্ষরে এবং কয়েল এফিসিয়েন্সীকে ‘ Q অক্ষরের সাহায্যে প্রকাশ করা হয় ।

 কি কি কারণের ( fiction ) উপয় ইঞ্চেস নির্ভরশীল ও আমরা জানি যে , প্রত্যেক পরিবাহীরই ইণ্ডাষ্ট্রেস আছে । কোন কয়েলের ইশল্টে যত বেশি হয় , তার আবিষ্ট তড়িচ্চালক বলও তত বেশি হয় এবং সেইসঙ্গে কয়েলে কারেন্টের হ্রাস - বৃদ্ধির ফলে তত বেশি বাধার সন্টি হয় । কিন্তু ইণ্ডাক্টেরে ভ্যাল , বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভরশীল । যথা ( a ) কয়েলে পাকের ( turn ) সংখ্যা কয়েলে তারের পাকের সংখ্যা যত বেশি হয় তার ইশল্পে বা আবেশ তত বেশি হয় , ( চিত্র - 12 - 5 ) । আবেশক যত বাড়ে আবেশাঞ্চ বাড়ে তার বগ অন পাতে , অথাৎ আবেশক যদি দ্বিগণ । হয় তাহলে আবেশাঙ্ক বাড়ে চারগণ ।  ( b ) দুটো পাকের মধ্যের ফঁাক ( spacing ) — কয়েলে পাশাপাশি দুটো পাকের মধ্যে ফাঁক যত কম থাকে ইণসে তত বেশি হয় ( চিত্র - - 126 ) । কারণ দুটো পাক যত কাছাকাছি থাকে চৌম্বক বলরেখা ( flux ) তত বেশি শক্তিশালী হয় । ( ( c ) কোরের ভেদ্যতা { permeability ) — কয়েলের কোর যদি নরম লােহার ( soft iron ) মত উচ্চ ভেদ্যতা যক্ত পদার্থ দিয়ে তৈরি হয় তাহলে কয়েলের ইশতে স বেশি হয় । হা টীলের ভেদ্যতা নরম লােহার চেয়ে কম । কোন কোরের ভেদ্যতা পরিমাপ করা হয় এয়ার কোরের ( অথাৎ যেখানে কোন পদার্থ নেই , বাতাস কোরের কাজ করে ) সঙ্গে তুলনা করে । যেমন নরম লােহার ভেদ্যতা হচ্ছে 400 , অথাৎ নরম লােহার কোরের ভেদ্যতা এয়ার কোরের ভেদ্যতার চেয়ে 400 গুণ বেশি । চিত্র - - - 12 - 7 . ( d ) কোরের ক্ষেত্রফল ( area ) — যে কয়েলের কোরের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল ( cross sectional area ) যতবেশি সে ই কয়েলের ইন্সেও ততবেশি । অর্থাৎ কোর যত মােটা হয় কয়েলের আবেশাঙ্ক তত বেশি হয় ( চিত্র - 12 - 7 ) । ® আবেশকের প্রকারভেদ ( Types of inductor ) ® নিম্নলিখিত বিষয়গুলাের উপর নির্ভর করে ইশারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয় । যথা ( i ) কোর মেটেরিয়াল - এয়ায় কোর বা আয়রণ কোর । ( ii ) ফ্রিকোয়েন্সী — অডিও বা রেডিও । ( iii ) প্রয়ােগ ( application ) — পাওয়ার সাপ্লাই ফিল্টার , পিকিং কয়েল , লিনিয়ারিটি কয়েল ইত্যাদি । . ( iv ) ওয়্যাইনিং - এর পদ্ধতি ( Method of winding ) - সিঙ্গল লেয়ার , মাল্টি লেয়ার , পেঙ্কো ( pancoke ) , পাই সেক্সান ( pie section ) ইত্যাদি ।

সাধারণত ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এয়ার কোর এবং আয়রণ কোর ইণ্ডাক্টার দুটোই বেশি ব্যবহৃত হয় । এয়ার কোর ’ কথাটা সাধারণত নন - ম্যাগনেটিক ( অচুম্বকীয় ) কোরের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় । তাই এয়ার কোরের ক্ষেত্রে বাতাস অথবা সিরামিক বা লাষ্টিকের টিউব বা রড ব্যবহার করা হয় । আর ‘ আয়রণ কোর ’ কথাটা ম্যাগনেটিক কোরের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় । এর কের ২য় = তহঠ . আয়ল কোর ইণ্ডা ঠুৱ চিত্র — 12 - 8 চিত্র - - 12 - 9 ইন্ডাক্টারকে আরও দু ' ভাগে ভাগ করা হয় , যথা — ফিক্সড ইণ্ডাক্টার এবং ভ্যারিয়েবল ইন্ডাক্টার । ফিক্সড ইন্ডাক্টারের ইণ্ডাক্টেন্সের কোন পরিবর্তন করা যায় না , অর্থাৎ তার ইণ্ডাক্টে সব সময় নির্দিষ্ট । কিন্তু , ভ্যারিয়েবল ইন্ডাক্টারের ক্ষেত্রে তার মধ্যস্থিত কোর ঘরিয়ে , তার ইণ্ডাক্টেন্স কমান বা বাড়ান হয় । এখানে চিত্রের মাধ্যমে ফিক্সড ইণ্ডাক্টার ( চিত্র - 12 - ) এবং ভ্যারিয়েবল ইন্ডাক্টারের প্রতীক চিহ্ন দেখান হয়েছে । ৫ ইণ্ডাক্টেন্সের একক ( unit ) এটি ইণ্ডাক্টে পরিমাপের একক হচ্ছে ‘ হেরি । কোন কয়েলের ইণ্ডাক্টেস 1 হেনরী তখনই বলা হবে , যখন তার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট সেকেণ্ডে 1 এ্যামপিয়ার হারে পরিবর্তিত হবে এবং 1ভােন্টের একটা চড়িচ্চালক বলকে আবিষ্ট করবে । ফ্লাল্প লিঙ্কেজ x 10 - ৪ হেনরি অতএব ,ইণ্ডাক্টে =কারেন্ট উৎপাদক ফ্লাক্স পরিবাহী কতক চৌম্বক বলরেখাকে ছেদ করার হারকে বলা হয় ফ্লাক্স লিঙ্কেজ । 

variable-inductor.jpg

আবেশকের সময় ( Combination of inductor ) 0 রেজিস্টার এবং কণ্ডেনসারের মত একাধিক ইন্ডাক্টারকে অনেক সময় বিভিন্ন কাজে সংযুক্ত করার প্রয়ােজন হয় । । এদেরকেও দু ’ ভাবে সংযুক্ত করা যায় , যথা — শ্রেণী সমবায়ে ( Series combination ) এবং সমান্তরাল সমবায়ে । ( Parallel combnination ) । 24 . LI L3 L3 ও শ্রেণী সমবায় — একাধিক আবেশককে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত করার সময় যদি তাদের পরস্পরের উপর পরপরের ! 5 কোন প্রভাব না থাকে ( অর্থাৎ প্রত্যেকটা আবেশককে পথক = ( ট ' ভাবে সিন্ডিং করে দেওয়া হয়েছে অথবা পাশাপশি দুটো । আবেশককে এমন দূরত্বে রাখা হয়েছে যে , একটার চুম্বক ক্ষেত্র । অন্যটার চুম্বক ক্ষেত্রের উপর কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি । চিত্র - - 12 - 10 করছে না । তাহলে তাদের তুল্য আবেশাঙ্ক ( Total | inductance ) প্রত্যেকটা আবেশকের পথক আবেশাঙ্কের যােগফলের সমান হবে । অর্থাৎ  LT = L + L + L + •••••• এখানে , L1 = 2H , L = 3H এবং L = 5H অতএব , LT = 2 + 3 + 5 = 10 হেনরি । | কিন্তু শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত একাধিক আবেশকের মধ্যে যদি পারস্পরিক আবেশাঙ্কের ( Mutual inductance ) সন্টি । হয় তাহলে নিম্নলিখিত ফমলা থেকে তাদের তুল্য আবেশাঙ্ক নির্ণয় করতে হবে । এখানে M এর আগে ‘ + ’ বা ‘ – কোন চিহ্ন থাকবে সেটা কয়েলের আবর্তনের উপর নির্ভর করে । যদি আবেশক দুটো এমনভাবে যুক্ত থাকে যে , তাদের কয়েলগুলাের আবর্তন একই দিকে অথাৎ উভয়ের বলরেখার অভিমুখে একই দিকে । হলে M এর আগে + ’ চিহ্ন বসবে । আর যদি আবেশক দুটো এমনভাবে যুক্ত হয় যে , কয়েল দুটোর পাক পরস্পর বিপরীত দিকে অবস্থান করে অর্থাৎ উভয়ের বলরেখার অভিমুখে বিপরীত দিকে থাকে , তাহলে M এর আগে – চিহ্ন বসবে । La Lই ওঁ সমান্তরাল সমবায় - - যদি একাধিক আবেশক সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত হয় এবং তারা পরস্পর পরস্পরের উপর কোন প্রভাব বিস্তার না করে , তাহলে তুল্য আবেশাঙ্ক নিম্নলিখিত সত্র থেকে নির্ণয় করতে হবে  ।

758-6-11pp-i1.png

ডি . সি . সার্কিটে ইণ্ডাক্টেন্স )অনুযায়ী যতক্ষণ সুইচ বন্ধ থাকবে ততক্ষণ সাকিটে কোন কারেন্ট প্রবাহিত হবে না । অতএব ইডাক্তারের ( L ) চারিদিকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রেরও সষ্টি হবে না । সুইচ যেইমাত্র বন্ধ করা হবে তখনই সাকিটে কারেন্ট প্রবাহিত হতে থাকবে এবং অল্পক্ষণের মধ্যেই কারেন্ট শুন্য থেকে তার সবেচ্চি ভ্যালতে পৌছে যাবে । যারফলে L - এর চারিদিকে চৌম্বক বলরেখারও বৃদ্ধি ঘটবে — শন্য থেকে তার সবেচ্চি ভ্যালতে । যে সময়ের মধ্যে শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ভ্যাল , পর্যন্ত কারেন্টের ( অথবা চেম্বিক বলরেখার ) বদ্ধি ঘটবে , সেই সময়ের মধ্যেই একটা বিপরীত তড়িচ্চালক বল ( back e . m . f . ) বা স্বকীয় আবেশের তড়িচ্চালক বলের ( e . m

. f . of self induction ) সৃষ্টি হবে । এই তড়িচ্চালক বল কারেন্টের পরিবর্তনে বাধা সৃষ্টি করবে । চিত্র - 12 - 12 কারেন্ট তার সবেচ্চি ভ্যালতে পৌঁছানর পর পুনরায় যতক্ষণ না তার ভ্যালর কোন পরিবর্তন হচ্ছে , ততক্ষণ চৌম্বকক্ষেত্রেরও কোন পরিবর্তন হবে না , এবং কোন বিপরীত তড়িচ্চালক বলও ( back e m . f . ) আবিষ্ট হবে না । । যেহেতু ডি . সি . সাকিটে কারেন্টের ভ্যালর পরিবর্তন হয় না ( কেবলমাত্র সুইচ বন্ধ করা বা খােলার সময় ছাড়া ) , তাই । পরিবাহী ডি . সি . প্রবাহতে কোন বাধার সৃষ্টি করে না । © ইণ্ডাটিভ রিএ্যাকুটেন্স ( Inductive Reactauce ) । | কোন ইন্ডাক্টার কোন এ . সি . সাকিটে অথবা কারেন্টের পরিবর্তনে যে বাধার সৃষ্টি করে তাকে বলা হয় “ ইণ্ডাটিভ । রিএ্যাকটে ” ( XL ) । একে রেজিস্ট্যান্সের ( R ) সঙ্গে তুলনা করা চলে এবং একেও ‘ ওমস - এ পরিমাপ করা হয় । | ইণ্ডাকটিভ রিএ্যাকটেন্সের ফমলা হচ্ছে , XL = 2nfL . | এখানে , ॥ ( পাই ) = 3142 , f = প্রযুক্ত তড়িচ্চালক বলের ফ্রিকোয়েন্সী — হার্টজে ( Hz ) এবং L = কয়েলের । ইণ্ডাক্টেক্স - হেনরিতে । এই ফমলা থেকে আমরা জানতে পারছি যে , ফ্রিকোয়েন্সী বেশি হলে ইণ্ডকটিভ রিএ্যাকটেন্সও বাড়ে । এছাড়া । আরও জানা যায় যে ( i ) যখন f = 0 ( শূন্য ) [ অথাৎ ডাইরেক্ট কারেন্টের ক্ষেত্রে ) ] , তখন ইণ্ডাকটিভ রিএ্যাকট্রেন্সও শন্য হবে । ( ii ) f বাড়লে ( তখন L স্থির থাকবে ) ইণ্ডাকটিভ রিএ্যাকটেন্সও বাড়বে । ( iii ) f অসীম ( infinite ) হলে XL অসীম হবে ।