language

 ট্রান্সফর্মার

 ট্রান্সফর্মার হচ্ছে এমন একটা ডিভাইস ( device ) বা যন্ত্রাংশ , যার সাহায্যে কোন ফ্রিকোয়েন্সীর পরিবর্তন না । করেই এবং কোন রকম দৈহিক সংস্পর্শ ছাড়াই বৈদ্যুতিক শক্তিকে একটা অল্টারনেটিং কারেন্ট সার্কিট থেকে অন্য একটা সাকিটে ট্রান্সফার করা যায় অর্থাৎ পাঠান যায় । এতে কারেন্টের পরিমাণ কম - বেশি করে ভােল্টেজও কম - বেশি করা যায় ।  গঠন প্রণালী ( Construction ) e একটা কোর অথবা খুব ঘন সন্নিবিষ্ট একাধিক কোরের উপর দুই বা ততােধিক কয়েল এমনভাবে জড়ান হয় যে , এরফলে একটা কয়েলে প্রযুক্ত অল্টারনেটিং কারেন্ট অন্য কয়েল বা কয়েলগুলােতে ভােল্টেজ আবেশিত ( induce ) করে  ট্রান্সফর্মারে সাধারণত ল্যামিনেটেড ( laminated ) কোর ব্যবহৃত হয় । এই কোর হচ্ছে বিশেষ ধরনের একটা এ্যালয় স্টীল , যা উচ্চ রােধযুক্ত এবং যার হিস্টারেসিস লস কম । ভানিস করে অথবা এনামেলের সাহায্যে প্রত্যেক ল্যামিনেশানকে ইনসুলেট করা হয় , যাতে করে এডি কারেন্ট লস কমিয়ে ফেলার কাজে কোর অনেক বেশি কার্যকরী হতে পারে । যে ট্রান্সফর্মারে কোর ব্যবহৃত হয় তাকে বলা হয় আয়রণ কোর ( Iron core ) । ট্রান্সফর্মার । আর যে ট্রান্সফর্মারে কোর ব্যবহৃত হয় না তাকে বলা হয় এয়ার কোর ( Air core ) ট্রান্সফর্মার । এক্ষেত্রে । বাতাস কোরের কাজ করে ।

0-12-500ma-step-down-transformer-228x228

ট্রান্সফর্মারে সাধারণত চার রকম আকারের কোর ব্যবহার করা হয় , যথা — E এবং I টাইপ অথবা T এবং U টাইপ । এখানে আর একটা চিত্রের মাধ্যমে কোরের বিভিন্ন অংশের পরিচয় দেওয়া হয়েছে | ল্যামিনেটেড আয়রণে তৈরি লাে - রিলাক্টেসের ( reluctance ) ঘন সন্নিবিষ্ট ম্যাগনেটিক সার্কিটের উপর ট্রান্সফর্মারের কয়েল দুটোকে জড়ান হয় এবং এইভাবে জড়ালে কয়েল দুটো নিজেদের মধ্যে খুব তীব্র পারস্পরিক আবেশাঙ্কের ( mutual inductance ) সৃষ্টি করে । যে কয়েলের সঙ্গে ইনপুট সাপ্লাই ( এ . সি . ) যুক্ত থাকে । এরয় = সোন গেরিয়া A = { xn এরিয়া - নে | ' উইণ্ডোরি স্টাড 3 = ake  তাকেই বলা হয় প্রাইমারী কয়েল ( P ) , আর যে কয়েল থেকে আবিষ্ট ( induced ) আউটপুট ভােল্টেজ নির্গত হয় তাকে বলা হয় সেকেণ্ডারী কয়েল ( S ) । প্রাইমারী কয়েল সব সময় একটা হয় , কিন্ত সেকেন্ডারী কয়েল একাধিক হতে পারে । ট্রান্সফর্মারে প্রাইমারী কয়েলের সঙ্গে যখন এ . সি . সাপ্লাই যুক্ত করা হয় , তখন তাতে কারেন্ট প্রবাহিত হতে থাকে এবং কোরের মধ্যে পরিবতিত বলরেখার ( alternating flux ) সৃষ্টি হয় । এই বলরেখার বেশিরভাগই সেকেণ্ডারী কয়েলের সঙ্গে একটা অদশ্য সম্পর্ক ( link ) স্থাপন করে । এরফলে ফ্যারাডের তড়িৎ - চুম্বকীয় আবেশের নিয়ম অনযায়ী এই কয়েলে একটা তড়িচ্চালক বল আবিষ্ট ( iduced ) হয় । এই অবস্থায় যদি সাকিট বা বর্তনী সম্পণ করা হয় , তাহলে সেকেণ্ডারী কয়েল থেকে কারেন্ট প্রবাহিত হতে থাকবে । অথাৎ অন্যভাবে বলা যায় যে ,   ট্রান্সফর্মারের কার্য প্রণালীটা পারস্পরিক আবেশ    ( mutual induction )   নীতির

উপর নির্ভর করে গঠিত । প্রাইমারী কয়েলে অল্টারনেটিং কারেন্ট সরবরাহ করলে সেই কয়েলের চারিদিকে পরিবর্তনকারী ( varying ) চৌম্বক ক্ষেত্রের সষ্টি হয় । এই চৌম্বকক্ষেত্র সেকেণ্ডারী কয়েলের পাককে ( turns ) ছেদ করে ( cut ) এবং তাতে একটা এ . সি . ভােল্টেজ আবিষ্ট করে । ট্রান্সফর্মারের সেকেণ্ডারী কয়েলে ভােল্টেজের পরিমাণ , প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারী কয়েলের পাকের সংখ্যার অনপােতের উপর নির্ভরশীল । যদিও প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারী কয়েলের মধ্যে আদৌ কোন সরাসরি বৈদ্যুতিক যােগাযােগ নেই । ৪ প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারী কয়েলের পাক ( turns ) ও ভােল্টেজের মধ্যে সম্বন্ধ ও আমরা জানি যে , ট্রান্সফর্মারের প্রাইমারীতে এ . সি . ইনপুট ভােল্টেজ প্রয়ােগ করলে , সেই ভােল্টেজ সেকেণ্ডারী থেকে আবিষ্ট এ . সি . ভােল্টেজ রপে নির্গত হয় । এই নির্গত ভােল্টেজ , অর্থাৎ আউটপুট ভােল্টেজের পরিমাণ প্রয়ােজনে ইনপুট ভােল্টেজের চেয়ে বেশিও করা যায় , আবার কমও করা যায়  ।  সেকেণ্ডারী ভােল্টেজের এই বেশি কম হওয়াটা

dffd.jpg

নির্ভর করে প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী কয়েলের তারের পাকের ( turns ) সংখ্যার অনুপাতের উপর । তবে পাকের সংখ্যার সঙ্গে সঙ্গে দেখতে হবে যে , প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারী কয়েল যেন একই ফ্রিকোয়েন্সীর হয় এবং তারা যেন একই বলরেখা বা ফ্লাক্স দ্বারা ছেদ করে । সাধারণত দেখা গেছে যে , কোরের প্রস্থচ্ছেদের আয়তন ( cross - sectional area ) বাড়লে বলরেখা বাড়ে । প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী কয়েলের পাকের সংখ্যার অনুপাত নিম্নলিখিত সুত্র ( formula ) থেকে নির্ণয় করা হয় । Es Ns যথা — Ep Np এখানে , Ep = প্রাইমারী কয়েলের ভােল্টেজ ; Es = সেকেণ্ডারী কয়েলের ভােল্টেজ ; Np = প্রাইমারী কয়েলের পাকের সংখ্যা ; Ns = সেকেণ্ডারী কয়েলের পাকের সংখ্যা । যদি ট্রান্সফর্মারের প্রাইমারী কয়েলের চেয়ে সেকেণ্ডারী কয়েলের পাকের সংখ্যা বেশি হয় , তাহলে প্রাইমারীতে প্রযুক্ত ভােল্টেজের চেয়ে সেকেন্ডারী থেকে নির্গত ভােল্টেজের পরিমাণ বেশি হবে । এই ধরনের ট্রান্সফর্মারকে বলা হয় স্টেপ আপ ( Step - up ) ট্রান্সফর্মার , যেহেতু এর ভােল্টেজের ধাপ আপ হচ্ছে অর্থাৎ বেড়ে যাচ্ছে । আর যদি ট্রান্সফর্মারের প্রাইমারী কয়েলের চেয়ে সেকেন্ডারী কয়েলের পাকের সংখ্যা কম হয় , তাহলে প্রাইমারীত প্রযুক্ত ভােল্টেজের চেয়ে সেকেণ্ডারী

থেকে নির্গত ভােল্টেজের পরিমাণ কম হবে । এই ধরনের ট্রান্সফর্মারকে বলা হয় স্টেপ - ডাউন ( Step down ) ট্রান্সফর্মার , যেহেতু এর ভােল্টেজের ধাপ ডাউন হচ্ছে অথাৎ কমে যাচ্ছে । সাধারণত ভােল্টেজের পরিমাণ বাড়ানর জন্য স্টেপ - আপ ট্রান্সফর্মরি এবং ভােল্টেজের পরিমাণ কমানর জন্য স্টেপ - ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয় । আর যে ট্রান্সফর্মারের প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারী কয়েলের পাকের সংখ্যার অনােত একই অর্থাৎ 1 : 1 , সেই ধরনের ট্রান্সফর্মারকে বলা হয় আইসােলেশান ( Isolation ) ট্রান্সফর্মার । এর প্রাইমারীতে যে পরিমাণ ভােল্টেজ প্রয়ােগ করা হয় , সেকেন্ডােরী থেকেও ঠিক সেই একই পরিমাণ ভােল্টেজ নির্গত হয় । একটা সাকিটকে অন্য একটা সার্কিট থেকে পথক করে রাখার জন্য ( isolate ) এই ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা । হয় । | একটা উদাহরণ দিলে ট্রান্সফর্মারের প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারী কয়েলের টার্ণ বা প্যক এবং ভােল্টেজের অনুপাতের । বিষয়টা বুঝতে সুবিধা হবে । উদাহরণ — একটা স্টেপ - আপ ট্রান্সফর্মারের প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারী কয়েলের টার্ণ - এর সংখ্যা হচ্ছে যথাক্রমে 1 , 000 ও 5 , 000 । এর প্রাইমারীতে 220 ভােল্ট সাপ্লাই প্রয়ােগ করলে , সেকেণ্ডারী থেকে কত ভােল্টেজ নির্গত হবে ? | Es _ Ns যেহেতু EpNp মজা অতএব , Es = EpxA6 = 220 x3 : 000 = 1 , 100 ভােল্ট । সুতরাং , এখানে প্রাইমারী কয়েলের চেয়ে সেকেণ্ডারী কয়েলের ভােল্টেজ 5 গুণ বেশি । • প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারী কয়েলের ভােল্টজ ও কারেন্টের মধ্যে সম্বন্ধ ও ট্রান্সফর্মারের প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারী কয়েলের কারেন্টের অনুপাত হচ্ছে প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারী কয়েলের ভােল্টেজের অনুপাতের ঠিক বিপরীত । উপরের উদাহরণ নিয়ে আলােচনা করলে দেখা যাবে যে , এই ট্রামারের সেকেণ্ডারী কয়েলের ভােল্টেজ ( Es ) প্রাইমারী কয়েলের ভােল্টেজের  ( Ep ) চেয়ে 5 গুণ বেশি  ।  কিন্তু কারেন্টে ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো । অর্থাৎ এখানে প্রাইমারী কয়েলের কারেন্ট ( Ip ) সেকেণ্ডারী কয়েলের কারেন্টের ( Is ) চেয়ে 5 গুণ বেশি । যেহেতু এই ট্রান্সফর্মারের ভােল্টেজের অনুপাত হচেছ স্টেপ - আপ , তাই এর কারেন্টের অনােত হচ্ছে । স্টেপ - ডাউন । অতএব , ট্রান্সফর্মারের কারেন্ট , ভােল্টেজ এবং টার্ণ - এর অনুপাতের সম্বন্ধটা হচ্ছে নিম্নরুপ । যথা Ip _ Es _ Ns Is® Ep®Np . কোন ট্রান্সফর্মারের প্রাইমারী সার্কিট কোন ভােল্টেজ সাের্স থেকে যে ক্ষমতা ( Power ) অর্জন করে , সেই ক্ষমতাকে । সেকেন্ডারী সাকিট লােডে সরবরাহ করে । সেকেণ্ডারীতে রেজিস্ট্যার লােডযুক্ত কোন সাধারণ ট্রান্সফর্মারে , প্রাইমারী যে ক্ষমতা সংগ্রহ করে ( absorb ) তা সেকেণ্ডারী যে ক্ষমতা ধরে রাখে ( consume ) তার সমান । তবে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে , সেকেণ্ডারী কর্তৃক ধরে রাখা ক্ষমতা , প্রাইমারী  কর্তৃক  সংগ্রহ  করা  ক্ষমতার চেয়ে  সামান্য  কম  ।   কারণ কোরের ক্ষয়ক্ষতি   ( loss )  পরণ  করার  জন্য প্রাইমারী কিছুটা বেশি ক্ষমতা সংগ্রহ করে  ।

ট্রান্সফর্মারের ক্ষয়ক্ষতি ( Losses of Transformer ) e নিম্নলিখিত কয়েকটা কারণে ট্রান্সফর্মারে কিছু ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয় অর্থাৎ লস হয় , যারজন্য হিসাব অনুযায়ী ট্রান্সফর্মার থেকে যে পরিমাণ ক্ষমতা ( power ) বা ভােল্টেজ পাওয়ার কথা তা পাওয়া যায় না , তার চেয়ে কিছু , কম পাওয়া যায় । এর প্রধান প্রধান কারণগুলাে হচ্ছে — ( a ) হিস্টারেসিস লস ( Hysteresis loss ) । ( b ) এডি - কারেন্ট লস ( Eddy - current loss ) ; ( c ) কপার লস ( Copper loss ) . ( iv ) ম্যাগনেটিক লিকেজ লস ( Magnetic leakage loss ) । ও হিস্টারেসিস লস — যখন লােহাকে কোন পরিবতিত চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করা হয় তখন চৌবকত্ব চৌম্বক শক্তিকে মন্থর করে দেয় , যেহেতু চৌম্বক ঘনত্বকে পরিবর্তনের জন্য লােহার রােধ কাজ করে । ঙ এড়ি - কারেন্ট লস — এই ধরনের লটা হচ্ছে বলরেখার পরিবর্তনের জন্য আয়রণ কোরের আবিষ্ট কারেন্টের তাপীয় ফলের দরণ শক্তির অপচয় । পরিবর্তিত বলরেখার জন্য কোরে ভােল্টেজ আবিষ্ট হয় এবং সেই ভােল্টেজ এড়ি কারেন্ট উৎপন্ন করে । এই এডি কারেন্ট ইনপুট শক্তি থেকে কিছু শক্তি কমিয়ে দেয় । ও কপার লস - ট্রান্সফারের লােডের জন্য এই লস , কারেন্টের বর্গের ( square ) সমানুপাতিক । ট্রান্সফর্মারের “ সর্বমােট কপার লস হচ্ছে , প্রাইমারী ( Ip ) 2xRp + সেকেন্ডারী ( Is ) 2 x Rs । এখানে , Ip = প্রাইমারী কারেন্ট ; Is = সেকেণ্ডারীর কারেন্ট ; Rp = প্রাইমারীর লােড ; Rs = সেকেণ্ডারীর । লােড । ও ম্যাগনেটিক লিকেজ লস যখন চৌম্বক বলরেখা কোরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় , তখন তাদের মধ্যে কিছু , কিছু বলরেখা উভয় কয়েলের মধ্যে যােগাযােগ স্থাপন ( interlink ) করে না । যারজন্য প্রাইমারী কয়েলে ইন্ডাকটিভ রেজিস্ট্যান্স তথা বিপরীত তড়িচ্চালক বলর সষ্টি হয় , যা সেকেণ্ডারী কয়েলে সঞ্চারিত হয় না । এইটাই তখন প্রাইমারী ওয়্যাইন্ডিং - এ রেজিস্ট্যান্স লসের মত ভােল্টেজ লসের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । ও ট্রান্সফর্মারের কর্মদক্ষতা ( Efficiency of Transformer ০ কোন ট্রান্সফর্মারের আউটপট পাওয়ার এবং ইনপুট পাওয়ারের অনুপাতকে বলা হয় ট্রান্সফর্মারের কর্মদক্ষতা । একে । সাধারণত শতকরা ( % ) হিসাবে ( percentage ) প্রকাশ করা হয় ।  অতএব , কর্মদক্ষতা = সেকেণ্ডারী আউটপট প্রাইমারীর ইনপুট + ট্রান্সফর্মারের লস EsxIs ® EpXIp + ট্রান্সফর্মারের লস আয়রণ কোর ট্রান্সফর্মারের ক্ষেত্রে , সাধারণত কর্মদক্ষতা 90 , এর চেয়েও বেশি হয় । ও ইম্পিডেন্স ম্যাচিং ( Impedance Matching ) প্রত্যেক কয়েলেরই কিছু না কিছু রােধ থাকে । যারফলে কয়েলে যে চৌম্বকীয় শক্তি সঞ্চিত হয় তার কিছুটা তাপের । আকারে বিনষ্ট হয় । এইজন্যই মনে করা হয় যে , কয়েলের সিরিজে সবসময় একটা রেজিস্টার যুক্ত রয়েছে । তবে সিরিজ ও প্যারালাল টিউনড সার্কিটের ক্ষেত্রে কথাটা একেবারে সত্য । রিএ্যাকটেন্স ও রেজিস্ট্যান্সের সমবায়কে combination ) বলা হয় ইম্পিডেন্স । তবে এই সমবায় মানে এই নয় যে , গাণিতিক নিয়মে রিএ্যাকটেন্স ও রেজিস্ট্যান্সের কেবলমাত্র যােগফল । ইম্পিডেন্সকে ‘ Z ’ অক্ষরের দ্বারা প্রকাশ করা । হয় , এবং তার পরিমাপের একক হচ্ছে ‘ ওমস । আমরা জানি যে , চৌম্বক বলরেখার পরিবর্তন ঘটিয়ে একটা ইলেকট্রিক্যাল সার্কিট থেকে অন্য একটা সাকিটে ইলেকট্রিক্যাল এনজিকে পাঠানর কাজে ট্রান্সফর্মার সক্ষম । এখানে বলরেখা সাকিট দুটোর মধ্যে যােগাযােগের কাজ করে । তাই সার্কিটে ট্রান্সফর্মার সংযােজক যন্ত্রাংশ ( coupling device ) হিসাবে কাজ করে এবং এইভাবেই প্রাইমারী সাকিটের পরিবতিত ভােল্টেজের সঙ্গে সেকেন্ডারী ভােল্টেজের সংযােগ ঘটে । কিন্তু ডাইরেক্ট কারেন্টের দৃষ্টিকোণ থেকে ট্রান্সফর্মার এই দুটো সার্কিটকে আইসােলেট করে অর্থাৎ পৃথক করে রাখে । এছাড়াও এর আর কাজ হচ্ছে — ভােল্টেজ , কারেন্ট ও ইম্পিডেন্সের পরিবর্তন ঘটান । ইম্পিডেন্সের পরিবর্তন ঘটানর গুণাবলীর জন্য , ট্রান্সফর্মরি ইম্পিডেন্স ম্যাচিং অথাৎ ইম্পিডেন্সের সামঞ্জস্য বিধানের কাজে প্রয়ােজনীয় একটা ডিভাইস বলে গণ্য হয় । কোন একটা ইলেকট্রিক্যাল সাের্স থেকে তার লােডে ক্ষমতা হস্তান্তরের ( transfer ) কাজে , সবোচ্চ ক্ষমতা । হস্তান্তরের জন্য লােডের ইম্পিডেন্স এবং সাের্সের ইন্টারন্যাল ইম্পিডেন্স এক হওয়া প্রয়ােজন । বিশেষ করে রেডিও কমিউনিকেশান যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে , লাে - ইম্পিডেন্স লােড । এবং হাই - ইম্পিডেন্স জেনারেটারের মধ্যে যােগাযােগের  জন্য এটার বিশেষ প্রয়ােজন আছে । এঝটা উদাহরণ । দিলে ব্যাপারটা বুঝতে সুবিধা হবে । এখানে সাের্সের ইম্পিডেন্স হচ্ছে 50 , 500 ওমস এবং লােডের ইম্পিডেন্স হচ্ছে 2000 ওমস । সবচ্চি ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রাইমারী an NP Nঃ ইম্পিডেন্সকে অতি অবশ্যই সােস ইম্পিডেস্যের সঙ্গে  এবং সেকেণ্ডারী ইম্পিডেন্সকে অতি অবশ্যই লােড ইম্পিডেন্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে , অথাৎ ম্যাচ করতে হবে । এজন্য ট্রান্সফর্মারের টাণ - এর অনুপাতের পরিবর্তন ঘটাতে হবে এবং এই অনুপাত নিম্নলিখিত সত্র থেকে নির্ণয় করতে । হবে । যথা NP _ Zp _ 50 , 000 _ 25 NsZs 2 , 000 1 এনে No = প্রাইমারীর টাণ - এর সংখ্যা ; Ns = সেকেণ্ডারীর টাণ এর সংখ্যা ; Zp = প্রাইমারীর ইপিডেন্স । zs = সেকেন্ডারীর ইম্পিডেন্স । প্রাইমারী কারেন্ট হচ্ছে 100 / 50 , 000 বা 002 এ্যামপিয়ার এবং সেকেণ্ডারী কারেন্ট হচ্ছে 20 / 20 , 000 বা 01 এ্যামপিয়ার । যেহেতু প্রাইমারী পাওয়ার      ( 2 ওয়াট )     সেকেণ্ডারী    পাওয়ারের    সমান  ,     তাই     ট্রান্সফর্মারের    লােড   ইম্পিডেন্স    সাের্স    ইম্পিডেন্সর    সঙ্গে    ম্যাচ    করে    গেছে  । 

ট্রান্সফর্মারের প্রকারভেদ ( Types of Transformer ) ৪ ট্রান্সফর্মারকে তার গঠন প্রণালী এবং ব্যবহার অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয় । গঠন প্রণালী অনুযায়ী একে দু ’ ভাগে ভাগ করা হয় । যথা — কোর টাইপ ( core type ) এবং সেল টাইপ ( shell type ) । কোর টাইপ ট্রান্সফর্মরি বন্ধ ( closed ) বা খােলা ( open ) ম্যাগনেটিক সাকিটের হতে পারে । যারজন্য একে । প্রাইমারী ক্লোজড - কোর টাইপ বা ওপেন - কোর টাইপ ট্রান্সফর্মরি বলা হয় । টানলে | ওপেন - কোর টাইপের ক্ষেত্রে , প্রাইমারীতে একটা সােজা ও লম্বা ল্যামিনেটেড আয়রণের উপর দুটো ওয়্যাইডিং জড়ান থাকে । ল্যামিনেটেড । এই ধরনের ওয়্যাইন্ডিং - এ খরচ কম পড়ে বটে , কিন্তু আয়রন মের । এতে লিকেজের জন্য লসটা হয় অনেক বেশি — কারণ এর ম্যাগনেটিক সেক্সেণ্ডারী পাথটা প্রধানত চারিদিকের বাতাসের সাহায্যে সম্পূর্ণ হয় । যারজন্য টার্মিনাল । এই ধরনের ট্রান্সফর্মার কেবলমাত্র রেডিওর ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে ব্যবহৃত । ক্লোজড - কোর টাইপ ট্রান্সফর্মারের ওয়্যাইন্ডিংগুলােকে সাধারণত সামনাসামনি , অর্থাৎ একটাকে আর একটার বিপরীত দিকে রাখা হয় । যে ধারগুলাের উপর ওয়্যাইন্ডিংগুলাে জড়ান থাকে সেই ধারগুলােকে বলা হয় কোর - লেগ ’ ( core - leg ) । এতে কয়েলগুলাে  সাধারণত  বেশি  ডায়মিটার যুক্ত  কপার তার দিয়ে তৈরি করা হয় ,  যাতে করে

763px-Transformer3d_col3.svg.png

অত্যধিক গরম হতে না পারে । উচ্চ ভােল্টেজ যুক্ত ট্রান্সফর্মারের ক্ষেত্রে ওয়্যাইন্ডিং - এর প্রত্যেকটা লেয়ারকে ( স্তর ইনসুলেটিং পেপার দিয়ে অন্য লেয়ার থেকে পথক করে রাখা হয় , যাতে করে দুটো লেয়ারের মধ্যে কোন সট সাকিট না হয় । সেল - টাইপ ট্রান্সফর্মারে সম্পূর্ণ ক্লোজড কোর ব্যবহার করা হয় । এই কোরের তিনটি লেগ — একটা । মাঝখানে এবং দুটো ধারে । এগুলাে চৌম্বক বলরেখার জন্য দুটো বাইরের সমান্তরাল পাথের ( outside parallel nath ) সষ্টি করে । এই ধরনের ট্রান্সফর্মারের ম্যাগনেটিক লিকেজ খুবই কম এবং এগুলাে রেডিওর পাওয়ার ও অডিও স্টেজে বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয় । এর মাঝখানের লেগে ওয়্যাইন্ডিংগুলাে সরাসরি একটার উপর আর একটা থাকে । যারজন্য এর ডিজাইনটা হয় খুব আঁটসাঁট ( compact ) এবং এর দামটাও হয় সস্তা । আবার বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয় । যথা পাওয়ার ট্রান্সফর্মার ( Power Transformer ) এই ধরনের ট্রান্সফর্মার এ . সি . অপারেটিং রেডিও এবং টেলিভিশনে ব্যবহৃত হয় । এটা হচ্ছে আয়রণ কৈার ১ac ভব ঘর একাধিক সেকেণ্ডারী ওয়্যাইন্ডিং এবং    একটা মাত্র প্রাইমারী ওয়্যাইন্ডিং থাকে  ।      এর প্রাইমারী                                                                              আইডিংটা সমস্ত সেকেণ্ডারী ওয়্যাইডিং - এর ক্ষেত্রে একই অর্থাৎ কমন । এখানে একাধিক সেকেন্ডারী ওয়্যাইন্ডিং 

657px-Transformer_winding_formats.jpg

ব্যবহারের অর্থ হচ্ছে , রেডিও কমিউনিকেশান যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন অপারেটিং ভােল্টেজ সাপ্লাই করা । টেলিভিশনে ব্যবহৃত হয় এরকম একটা পাওয়ার ঔান্সফমারের চিত্র এখানে দেখান হয়েছে । এখানে S1 ও S2 সেকেণ্ডারী । ওয়্যাইন্ডিং থেকে প্রাপ্ত ভােল্টেজ রেকটিফায়ারের সাহায্যে রেকটিফাই করে যথাক্রমে 110 ভােল্ট এবং 12 ভােল্টের । ডি . সি . সাপ্লাই দেওয়া হয় । S3 ওয়্যাইন্ডিং থেকে নির্গত এ . সি . ভােল্টেজকে সরাসরি পিকচার টিউবের ফিলামেস্টে পাঠান হয় । • সাউণ্ড আউটপুট ( Sound Output ) ট্রান্সফর্মার - এই ট্রান্সফর্মার রেডিও এবং টিভি সেটে ব্যবহৃত হয় । সাধারণত এগুলাে আকারে ছােট হয় । ইম্পিডেন্স ম্যাচিং - এর জন্য এদের ব্যবহার করা । 1s1 হয় । টিভিতে ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারে । চারটি কানেকশান পয়েন্ট থাকে । যার 2নং ও 3নং পয়েন্ট হচ্ছে প্রাইমারী এবং 1নং ও ৪নং পয়েন্ট হচ্ছে সেকেণ্ডারী । ইন্টারমিডিয়েট ফ্রিকোয়েন্সী ।  ( Intermediate Frequency ) ট্রান্স 500 ফর্মার ip S4 কেবকেয়বহবে । একে সংক্ষেপে আই . এফ . টি . s ( I . F . T . ) বলা হয় । এটা একধরনের ভ্যারিয়েবল ট্রান্সফর্মার । ইলেকট্রিক রেডিওতে দুটো আই . এফ . টি . ব্যবহৃত হয় । এই দুটো ট্রান্সফর্মারে B , D , E এবং G এই চারটি স্ট্যান্ডার্ড মার্ক দেওয়া থাকে । B ও P হচ্ছে প্রাইমারী ওয়্যাইন্ডিং এবং E ও

G হচ্ছে সেকেণ্ডারী ওয়্যাইন্ডিং । ট্রানজিস্টার রেডিওতে সাধারণত তিনটি আই , এফ , টি ,ব্যবহৃত হয় । ও ট্যাপড সেকেণ্ডারী ( Tapped Secondary ) ওয়্যাইণ্ডিং ট্রান্সফর্মার এই ধরনের ট্রান্সফর্মার ব্যাটারী এলিমিনেটারের জন্য ব্যবহৃত হয় । এতে 15 ভােল্ট থেকে 12 ভােল্ট পর্যন্ত বা আরও বেশি বিভিন্ন পরিমাণের ভােল্টেজ পাওয়ার জন্য একাধিক ট্যাপিং করা থাকে । এতে প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারীর জন্য একটা করে পথক ওয়্যাইন্ডিং ব্যবহৃত 10 হয় । তবে সেকেণ্ডারীর এই একটা ওয়্যাইন্ডিং থেকেই একাধিক ট্যাপিং করা থাকে বিভিন্ন ভােল্টেজের জন্য T । অটো - ট্রান্সফর্মার ( Auto - transformer ) * অটো - ট্রান্সফর্মারে একটামাত্র ওয়্যাইন্ডিং বা কয়েল ৯মারী ও সেকেন্ডারী ওয়্যাইন্ডিং হচ্ছে এই একটামাত্র ওয়্যাল্ডিং - এর অংশ বিশেষ । এটাও  আয়রণ কোর ট্রান্সফর্মার । এর কার্যপ্রণালী আগে যেরকম বলা হয়েছে ঠিক সেই একই রকম । অর্থাৎ প্রাইমারী কারেন্টের দ্বারা উৎপন্ন চৌম্বক বলরেখা সেকেণ্ডারীর টাণকে ছেদ করে এবং তাতে ভােল্টেজ আবিষ্ট হয় । অটো - ট্রান্সফর্মারে প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারীর ওয়্যাইন্ডিং - এর মধ্যে সরাসরি দৈহিক ( ধাতব ) সম্বন্ধ ( direct metalic connection ) আছে । অর্থাৎ এর ওয়্যাইডিং - এর কিছুটা অংশ সবসময় প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারীর ক্ষেত্রে কমন বা একই । যদি এই ট্রান্সফর্মারের সম্পূর্ণ ওয়্যাইন্ডিংকে প্রাইমারী এবং সম্পূর্ণ ওয়্যাইডিং - এর কিছুটা অংশকে সেকেণ্ডারী হিসাবে ব্যবহার করা হয় , তাহলে এই ধরনের ট্রান্সফর্মার হচ্ছে স্টেপ - ডাউন ট্রান্সফর্মরি । আর স্টেপ - আপ ট্রান্সফর্মারের ক্ষেত্রে সম্পণে ওয়্যাইন্ডিংকে সেকেণ্ডারী এবং সম্পূর্ণ ওয়্যাইন্ডিং - এর কিছুটা অংশকে প্রাইমারী হিসাবে ব্যবহার করা হয়। অটো - ট্রান্সফর্মারেও প্রাইমারী এবং সেকেণ্ডারী ওয়্যাইন্ডিং - এর টার্ণ - এর অনুপাতের উপর তার সেকেন্ডারী ভােল্টেজ ( আউটপট ) নির্ভর করে । অবশ্য সাপ্লাই ভােল্টেজের ( প্রাইমারী ) পরিমাণও সেকেণ্ডারী ভােল্টেজ স্থির করার ব্যাপারে একটা কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে । নিম্নলিখিত সুত্র থেকে এর সেকেন্ডারী ভােল্টেজ পাওয়া যায় । যথা Es _ Ns Ep = Nn el এই ট্রান্সফর্মারের সেকেণ্ডারীতে প্রযুক্ত লােডের পরিবর্তন ঘটলেও এর সেকেণ্ডারী ভােল্টেজ প্রায় একই থাকে । কিন্তু এই ট্রান্সফর্মার প্রাইমারী ও সেকেণ্ডারী সার্কিটের মধ্যে কোন আইসােলেশানের কাজ করতে পারে না , কারণ এতে ডি . সি . লেভেল ব্লক হয় না অর্থাৎ আটকায় না । যে সমস্ত যন্ত্রপাতিতে সাপ্লাই ভােল্টেজের হেরফের ( Variation ) খুব কম হওয়া প্রয়ােজন , সেখানে এই ধরনের ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয় । এর কার্যপদ্ধতি দুটো পথক ওয়্যাইন্ডিং যুক্ত ট্রান্সফর্মারের মতােই । তবে এতে একটা ওয়্যাইন্ডিং থাকার জন্য তারের পরিমাণ কম লাগে , তাই এটা দামেও সস্তা । ইণ্ডাকশন মোটর স্টার্ট করার কাছে এই ট্রান্সফর্মারকে ব্যবহার করা হয় , যেহেতু এই মােটর স্টার্ট করার সময় এতে প্রযুক্ত ভােল্টেজের পরিমাণ কমে যায় । একে বস্টারেও ব্যবহার করা হয় ফিডারের ভােল্টেজ বাড়ানর জন্য । এই টান্সফর্মারে কিছ ; অসবিধাও আছে । যেহেতু এর প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী ওয়্যাইন্ডিং দুটো ইলেকট্রিক্যালি পথক নয় , তাই এই ধরনের ট্রান্সফর্মার এইচ . টি . ( H . T . ) সাকিটে ব্যবহার করলে যদি কোন কারণে ব্রেক ডাউন করে তাহলে এল . টি . ( L . T . ) সাকিটে দারল । শক দেবে ।